৪ লাখ টাকা চুরি, সিসিটিভিতে ধরা পড়ল পুরো ঘটনা
কুমিল্লার দেবিদ্বারে পূবালী ব্যাংকের শাখায় রোববার ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এক চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনা ঘটেছে। এক গ্রাহক ব্যাংক থেকে ৭ লাখ টাকা উত্তোলন করে সোফায় বসে স্ত্রী ও পুত্রবধূর সঙ্গে টাকা গুনছিলেন। সেই সময় পাশে বসা এক ব্যক্তি কৌশলে ৪ লাখ টাকার বান্ডেল নিয়ে পালিয়ে যান। পুরো ঘটনা ব্যাংকের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে এবং ফুটেজটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
ভুক্তভোগী মো. জাকির হোসেন কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর গ্রামের চানমিয়া সরকার বাড়ির বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন ইলেকট্রিশিয়ান। নিজের পারিবারিক প্রয়োজনে তিনি রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কুমিল্লার দেবিদ্বার পূবালী ব্যাংক শাখায় গিয়ে ৭ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাকে এক হাজার টাকার ৫টি বান্ডেল, ৫০০ টাকার ২টি বান্ডেল এবং ১০০ টাকার ১০টি বান্ডেল দেন।
টাকা হাতে নিয়ে জাকির হোসেন ব্যাংকের ভেতরের একটি সোফায় বসেন। তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী আয়েশা আক্তার ও পুত্রবধূ পলি আক্তার। তারা একসঙ্গে টাকা গুনতে শুরু করেন। প্রথমে এক হাজার টাকার ৪টি বান্ডেল, অর্থাৎ ৪ লাখ টাকা গুনে পেছনে রাখেন। এরপর বাকি টাকা মনোযোগ দিয়ে গুনতে থাকেন। এই সুযোগে পাশে বসা এক ব্যক্তি খুব দ্রুত ওই ৪টি বান্ডেল হাতের কাছে নিয়ে ব্যাংক থেকে বেরিয়ে যান।
টাকা গোনা শেষে হিসাব মেলাতে গিয়ে দেখা যায় ৪ লাখ টাকা নেই। জাকির হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা তখন কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালে সিসিটিভি ফুটেজ দেখা হয়। ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যায়, পাশের লোকটি কীভাবে টাকা নিয়ে চলে যায়।
এ ঘটনায় রোববার রাতেই জাকির হোসেন কুমিল্লার দেবিদ্বার থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান এ বিষয়ে জানান, অভিযোগ ও সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পূবালী ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক মো. ওয়ায়েছ মাসুম চৌধূরী বলেন, “গ্রাহক টাকা উত্তোলন করে গণনায় ব্যস্ত ছিলেন। টাকা গুনে গুনে পেছনে রাখছেন, কিন্তু ডান-বামে লক্ষ্য করছিলেন না। এ সুযোগে প্রতারক চক্রের সদস্য কৌশলে ৪ লাখ টাকার চারটি বান্ডেল নিয়ে চলে যায়।”
এই ঘটনায় স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।এবং ব্যাংক এ থাকা বাকী সদস্যরা বলছেন, ব্যাংকের ভেতরে এভাবে চুরি হওয়া নিরাপত্তার ব্যর্থতা। ব্যাংকে গ্রাহকদের টাকা গোনার সময় নজরদারি বাড়ানোর দাবি উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকে মন্তব্য করেছেন যে চোরকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা উচিত। কেউ কেউ বলেছেন, ব্যাংকে প্রবেশের সময় পরিচয় যাচাই এবং নজরদারি আরও কঠোর করা দরকার।
বাংলাদেশে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের চুরির ঘটনা নতুন নয়। গ্রাহকরা বড় অঙ্কের টাকা উত্তোলনের পর গুনতে গিয়ে অসাবধান হলে প্রতারকরা সুযোগ নেয়। বিশেষ করে ছোট শাখাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনেক সময় দুর্বল থাকে। সিসিটিভি থাকলেও বাস্তবসম্মত নজরদারি না থাকলে এ ধরনের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্র জানায়, ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চোরকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। চোরের চেহারা স্পষ্ট ধরা পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তে প্রতারক চক্রের আরও সদস্য জড়িত কিনা তাও খতিয়ে দেখা হবে।
জাকির হোসেন ও তার পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। ৭ লাখ টাকার মধ্যে ৪ লাখ হারানো তাদের জন্য বড় ধাক্কা। তিনি জানান, টাকাগুলো পারিবারিক প্রয়োজনে তুলেছিলেন।এখন সেই টাকা ফিরে পাওয়ার আশায় পুলিশের দিকে তাকিয়ে আছেন।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা গ্রাহকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। টাকা উত্তোলনের পর গুনতে গিয়ে আশপাশের দিকে নজর রাখতে হবে। বড় অঙ্কের টাকা হাতে নিয়ে সোফায় বসে গোনার সময় সতর্কতা অবলম্বন জরুরি।
এই ঘটনাটি আবারও ব্যাংক নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলেছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, ব্যাংক শাখাগুলোতে আরও বেশি নিরাপত্তাকর্মী ও আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা থাকা দরকার। গ্রাহকদের জন্য আলাদা গণনা কক্ষ বা নিরাপদ স্থান ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনা নিয়ে আলোচনা চলছে।সবাই চোরের দৃস্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ব্যাংকের অব্যবস্থাপনার কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটে। আবার কেউ ভুক্তভোগীর অসাবধানতাকেও দায়ী করেছেন।
পুলিশ বলছে, তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে অপরাধীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হবে। সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণ ব্যবহার করে চোরকে শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ব্যাংক ও গ্রাহক উভয়কেই সতর্ক হতে হবে। ব্যাংকে টাকা উত্তোলনের পর গুনতে গিয়ে মনোযোগ হারালে এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং গ্রাহকদের সচেতনতা বাড়ানোই এ ধরনের অপরাধ রোধের উপায়।
দেবিদ্বার থানা পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে অপরাধীর পরিচয় উদ্ঘাটন এবং গ্রেপ্তারের খবর আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য এটি একটি বড় আঘাত। তারা চান, হারানো টাকা ফিরে পাক এবং অপরাধী যথাযথ শাস্তি পাক।
ব্যাংকিং খাতে এ ধরনের ঘটনা ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের বিষয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী না হলে সাধারণ গ্রাহকরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে আরও সচেতন ও সক্রিয় হতে হবে।
এ ঘটনার পুরো বিবরণ সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট। চোর কীভাবে সুযোগ নিয়েছে, কীভাবে টাকা নিয়ে বেরিয়ে গেছে—সবই ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। এখন পুলিশের কাজ হলো সেই ফুটেজ ব্যবহার করে অপরাধীকে ধরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দেবিদ্বারে এ ধরনের ঘটনা আগেও ঘটেছে। নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি তারা বহুদিন ধরেই জানিয়ে আসছেন। এই ঘটনা সেই দাবিকে আরও জোরালো করেছে।
জাকির হোসেনের পরিবার এখন পুলিশের সহযোগিতায় তদন্তে সহায়তা করছেন। তারা আশা করছেন, শিগগিরই চোর ধরা পড়বে এবং টাকা উদ্ধার হবে।
চুরি, ৪ লাখ টাকা
কুমিল্লার দেবিদ্বারে পূবালী ব্যাংকের শাখায়
আরও পড়ুন।
ইকবাল হোসাইন/এডমিন



