লক্ষ্মীপুরে সুপারি গাছে

লক্ষ্মীপুরে সুপারি গাছে উঠতে রাজি না হওয়ায় শিশুকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

Lakshmipur News
পোস্টটি শেয়ার করুন
লিংক কপি হয়েছে ✓
প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ৫:২৯ পি,এম
প্রতিবেদক: ইকবাল হোসাইন | লক্ষীপুর

লক্ষ্মীপুরে সুপারি গাছে উঠতে রাজি না হওয়াকে কেন্দ্র করে সদর উপজেলার চর রুহিতা ইউনিয়নে রিশাদ হোসেন (১২) নামে এক শিশুকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে রুবেল হোসেন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রুবেল পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ।

শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চর রুহিতা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রিশাদ ওই এলাকার বাসিন্দা ও ফতু ব্যাপারী বাড়ির অটো রিকসাচালক সাহেদ হোসেনের ছেলে।এই ঘটনার পর স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় রিশাদকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শামীম আফজাল।পরে রিশাদ এর মরদেহ লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়।

লক্ষ্মীপুরে সুপারি গাছে উঠা নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত?

শনিবার সন্ধ্যায় রুবেল রিশাদকে সুপারি গাছে উঠতে বলেন। রিশাদ গাছে উঠতে রাজি না হলে রুবেল ও রিশাদ তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
একপর্যায়ে রুবেল রিশাদকে ছুরিকাঘাত করেন।রিশাদ এর গলায় পেটে একাধিক আঘাত চিন্হ রয়েছে বলে নিশ্চিত করেন লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ড.শামীম আফজাল।

ঘটনার পর অভিযুক্ত রুবেল পলাতক

ঘটনার পর অভিযুক্ত রুবেল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় শনিবার রাত পর্যন্ত প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি এবং তাকে আটকের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে জানানো হয়।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ ফারবেজ সংবাদমাধ্যমকে জানান, ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহত শিশুর মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলমান।সদর থানার পুলিশ ওয়াহিদ ফারবেজ জানায় অভিযুক্ত রুবেল একই এলাকার বাসিন্দা এবং তার বাবার নাম মিলন।

পরিবারের ওপর নেমে এসেছে শোক

মাত্র ১২ বছর বয়সী রিশাদ এর এমন মৃত্যুতে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একটি সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে একটি শিশুর প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা,এই ঘটনা সুস্ঠ তদন্তের মাধ্যমে অপরাধী কে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।বলে আশাবাদী নিহত রিশাদের পরিবার ও স্থানীয়রা।

পুলিশের বক্তব্য

ঘটনার খবর পাওয়ার পর লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার পুলিশ হাসপাতালে যায়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত রুবেলকে আটকের চেষ্টা চলছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।পুলিশের এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, ২৯ আগস্ট রাতে এবং ৩০ আগস্ট সকালে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী রুবেল তখনো গ্রেপ্তার হননি। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বা কোনো অনিশ্চিত সূত্রে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া গেলেও পুলিশের আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা ছাড়া সেটিকে নিশ্চিত সংবাদ হিসেবে অপপ্রচার না চালানোর জন্য আহবান।

লক্ষ্মীপুর নিউজের কাছে থাকা ভিডিও ফুটেজে ঘটনার পর হাসপাতালকেন্দ্রিক পরিস্থিতির কিছু দৃশ্য

ময়নাতদন্ত ও তদন্তে পরিষ্কার হবে আরও তথ্য

শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও আঘাতের বিস্তারিত সম্পর্কে ময়নাতদন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে। একই সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেওয়া এবং অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের মাধ্যমে তদন্ত এগিয়ে নেবে।বলে আশ্বাস দেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ। তিনি আরও বলেন আইন নিজের হাতে নয়
কোনো বিষয়ে মতবিরোধ বা কথা কাটাকাটি হলেও তা যেন সহিংসতায় রূপ না নেয়—এ বিষয়ে সামাজিকভাবে সচেতনতা প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রে ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতা জরুরি।
কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে যাওয়াই সঠিক পদ্ধতি। এই ঘটনায়ও পুলিশ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা ও দায় নির্ধারণ করবে।ঘটনার সঙ্গে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার হয়ে থাকলে সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ আলামত হতে পারে। তবে বর্তমানে নির্ভরযোগ্য সূত্রে অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়ায় তা সংবাদে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে না।
তদন্তে বেরিয়ে আসতে পারে—শিশুটির সঙ্গে অভিযুক্তের আগে কোনো বিরোধ ছিল কি না, লক্ষ্মীপুরে সুপারি গাছে উঠার বিষয়টি ঠিক কীভাবে বিরোধে রূপ নেয় এবং হামলার সময় সেখানে আর কারা উপস্থিত ছিলেন।ঘটনার সময় প্রত্যক্ষদর্শী কারা ছিলেন, শিশুটির সঙ্গে অভিযুক্তের আগে কোনো বিরোধ ছিল কি না এবং হামলার পর অভিযুক্ত কোথায় পালিয়েছিলেন—এসব বিষয়ও তদন্তের অংশ হতে পারে।
তদন্তের এসব তথ্য পাওয়া গেলে পরবর্তী আপডেটে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।

লক্ষ্মীপুর নিউজ এই ঘটনার পরবর্তী পুলিশি বক্তব্য ও নিহত রিশাদ এর পরিবারের থেকে বক্তব্য মামলাও আইনি পক্রিয়া কোন আপডেট পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
প্রতিবেদন: লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি/ইকবাল হোসাইন,এডমিন
লক্ষ্মীপুর নিউজ

আরও জানুন।

চন্দ্রগঞ্জে রেপিড ডিলার নিয়োগ, আগ্রহী ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষ সুযোগ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *