নরসিংদীতে শিশুর পা মুছকে দেওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ভিডিও ভাইরাল।
নিজস্ব প্রতিবেদক | নরসিংদী
১৪ জুলাই ২০২৬ তারিখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুর পা মুছকে দেওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ভিডিও ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে আপন চাচী নবজাতক ৩মাসের শিশু টাকে পা মুছকে দিচ্ছে ভিডিওটা ভাইরাল হওয়ার পর ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
শিশুর পা মুছকে দেওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা
নরসিংদীতে আপন চাচী নবজাতক শিশুর ওপর নির্যাতনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে শিশুটির আচরণে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করার পর মা গোপনে মোবাইল ফোনের ক্যামেরা চালু করে রাখেন। ভাইরাল ভিডিওতে এক নারীকে শিশুটির পা জোর করে মুচড়ে দিতে দেখা যায় ভিডিওটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
শিশুটির মা সাহেরা বেগম কয়েক দিন ধরে লক্ষ্য করছিলেন, তিনি ঘরের বাইরে গেলেই তার সন্তান অস্বাভাবিকভাবে কান্নাকাটি করত এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা যেত। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি একদিন ঘরের একটি কোণে মোবাইল ফোনের ক্যামেরা চালু রেখে বাইরে যান।তিনি কিছুদিন ধরে লক্ষ্য করছিলেন যে, তিনি ঘরের বাইরে গেলেই ফিরে এসে সন্তানকে অস্বাভাবিকভাবে কান্নাকাটি করতে দেখতেন। একই সঙ্গে শিশুর শরীরের বিভিন্ন স্থানে লালচে দাগও দেখতে পান। প্রথম দিকে বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত হতে না পারলেও মাতৃসুলভ সন্দেহ থেকেই তিনি বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে শুরু করেন।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার জন্য ওইদিন তিনি ঘরের একটি কোণে মোবাইল ফোনের ক্যামেরা চালু রেখে ওয়াশরুমে যান। কিছু সময় পর ফিরে এসে ভিডিওটি পর্যালোচনা করলে সেখানে এমন একটি দৃশ্য দেখা যায়, যা দেখে পরিবারের সদস্যরা হতবাক হয়ে পড়েন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ভিডিওতে দেখা যায় যে মা ঘর থেকে বের হওয়ার পর শিশুটির বড় চাচি ঘরে প্রবেশ করেন। এরপর তিনি বিছানায় শুয়ে থাকা নবজাতকটির একটি পা জোর করে মুচড়ে দেন। সঙ্গে সঙ্গে শিশুটি তীব্র ব্যথায় চিৎকার করে কেঁদে ওঠে বলে ভিডিওতে দেখা গেছে বলে পরিবারের দাবি। ঘটনার পর ওই নারী দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে যান বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ভিডিওটি দেখার পর তারা বিষয়টির গুরুত্ব বুঝতে পারেন। তাদের দাবি, শিশুটির পায়ে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায় এবং পরে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হয়। তবে শিশুটির আঘাতের ধরন বা চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মেডিকেল প্রতিবেদন এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে বলে জানা গেছে। অনেকেই নরসিংদীতে আপন চাচী এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে বলেছেন, যদি অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তবে এটি অত্যন্ত নৃশংস ও অমানবিক একটি ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে।এদিকে, সংশ্লিষ্ট
পুলিশের তদন্তে যা জানা গেল
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নরসিংদীর পাইকাদি এলাকার বাসিন্দা জহিরুল মিয়া ও সায়মা আক্তার দম্পতির তিন মাস বয়সী এক ছেলে সন্তান রয়েছে, যার নাম রিজিক। পরিবারের দাবি, জন্মের পর থেকেই শিশুটি বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিল এবং কিছুদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। এ সময় শিশুটির মায়ের জা লতা বেগম বাড়ির বিভিন্ন কাজকর্মে সহযোগিতা করেন। তবে পরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১১ জুন পারিবারিক বিরোধের জেরে লতা বেগম শিশুটির পায়ে মোচড় দেন। ঘটনাটি ঘরে থাকা একটি মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় ধারণ হয়। পরে ওই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং দাবি করা হয় যে শিশুটির পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তবে পরিবারের দাবি, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে সম্পাদনা (এডিট) করা হয়েছে এবং বিষয়টি অতিরঞ্জিতভাবে প্রচার করা হয়েছে।
ভিডিওটি ১৪ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনায় আসে। খবর পেয়ে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) মাধবদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির পা ভাঙা বা গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার কোনো আলামত তারা পায়নি। শিশুটির শরীরে প্লাস্টার, ব্যান্ডেজ বা ভাঙার দৃশ্যমান কোনো চিহ্নও দেখা যায়নি।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটির বাবা জহিরুল মিয়া ও মা সায়মা আক্তার বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি AI প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পাদনা করে বিভ্রান্তিকরভাবে প্রচার করা হয়েছে। তাদের দাবি, শিশুর পা ভাঙেনি এবং বর্তমানে সে সুস্থ রয়েছে। তারা আরও জানান, পারিবারিক বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটলেও পরে উভয় পরিবারের সদস্যদের উদ্যোগে বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসা করা হয়েছে। অভিযুক্ত লতা বেগমের বাবাও তাদের বাড়িতে এসে মেয়েকে এ বিষয়ে ভর্ৎসনা করেছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
তবে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন দাবির সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশ নজর রাখছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
একজন শিশু অধিকারকর্মী বলেন, “শিশুর শরীরে অস্বাভাবিক দাগ, আচরণে পরিবর্তন বা অতিরিক্ত কান্নাকাটি—এসব বিষয়কে অবহেলা করা উচিত নয়। তবে কোনো অভিযোগকে সত্য ধরে নেওয়ার আগে অবশ্যই নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।”
এদিকে, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলেও তদন্তের আগে কোনো তথ্যকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। পুলিশ বলছে, ভাইরাল হওয়া ভিডিও এবং ঘটনাটির প্রকৃত সত্য উদঘাটনে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বা ছবি শেয়ার করার আগে সেগুলোর সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে ভিডিও বা ছবি সম্পাদনা করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া তুলনামূলক সহজ হয়ে উঠেছে। তাই কোনো ভিডিও ভাইরাল হলেই সেটিকে সত্য বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
অন্যদিকে, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার ও অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পারিবারিক বিরোধ বা অন্য কোনো কারণে শিশুর প্রতি কোনো ধরনের সহিংসতা বা নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এ ঘটনায়ও তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নতুন কোনো তথ্য বা তদন্তের অগ্রগতি জানা গেলে Lakshmipur News-এ পরবর্তী আপডেট প্রকাশ করা হবে।
আরো বিস্তারিত আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল এর সঙ্গে থাকুন।
https://www.youtube.com/@DainikLakshmipur

