প্রকাশিত ১০|০৭|২০২৬ তারিখ
চট্টগ্রামে অতি বৃষ্টিতে চরম জনদুর্ভোগ: জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত নগরজীবন, ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ
নিজস্ব প্রতিবেদক | লক্ষীপুর নিউজ |Lakshmipur News
টানা অতি বৃষ্টির কারণে আবারও চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক জলাবদ্ধতা। শনিবার ভোর থেকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণে নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, অলিগলি, নিম্নাঞ্চল ও আবাসিক এলাকাগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। এতে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই যেসব এলাকায় পানি জমে যায়, সেখানে এবার টানা বর্ষণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অনেক এলাকায় কোমরসমান পানি জমে যাওয়ায় মানুষের চলাচল ব্যাহত হয়। কোথাও কোথাও ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে।
নগরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সবসময় বর্ষা মৌসুমে চট্টগ্রামে অতি বৃষ্টি
চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ, হালিশহর, বহদ্দারহাট, চকবাজার, মুরাদপুর, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ, খুলশীসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে পানি জমে থাকে। প্রধান সড়কের পাশাপাশি অলিগলিতেও হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি দেখা যায়।
অনেক এলাকায় ড্রেন উপচে পানি সড়কে উঠে আসে।
চট্টগ্রামে অতি বৃষ্টিতে চরম জনদুর্ভোগ: জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত নগরজীবন
চট্টগ্রামে অতি বৃষ্টিতে যান চলাচলে বিঘ্ন
এতে যানবাহন চলাচল ধীরগতির হয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
জনজীবনে নেমে আসে দুর্ভোগ
সকালে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং জরুরি কাজে বের হওয়া সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। অনেকেই জুতা হাতে নিয়ে পানির মধ্যে হেঁটে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
রিকশা ও সিএনজি চালকরাও জলাবদ্ধ সড়কে চলাচলে সমস্যায় পড়েন। অনেক এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।
ঘরবাড়িতে ঢুকেছে পানি
নিম্নাঞ্চলের বহু বাড়িতে বৃষ্টির পানি প্রবেশ করেছে। অনেক পরিবার আসবাবপত্র উঁচু স্থানে সরিয়ে রাখে। রান্নাঘর, শোবার ঘর ও উঠান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।
অনেক পরিবারের শিশু ও বয়স্ক সদস্যরা নিরাপদ স্থানে যেতে বাধ্য হন। বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হওয়ায় অনেকেই সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
ব্যবসায়ীদের ক্ষতির আশঙ্কা
বাজার ও দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নিচু স্থানে থাকা দোকানগুলোতে পণ্য নষ্ট হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
অনেক ব্যবসায়ী জানান, বর্ষা মৌসুম এলেই একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে।
উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম
জলাবদ্ধ এলাকায় স্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস এবং স্বেচ্ছাসেবীরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। কোথাও কোথাও আটকে পড়া মানুষকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দিতে সহায়তা করা হয়েছে।
প্রয়োজনে জরুরি সেবা নিশ্চিত রাখতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, খাল দখল, ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং নিয়মিত খাল-নালা পরিষ্কার না হওয়ায় জলাবদ্ধতার সমস্যা দিন দিন বাড়ছে।
তাদের মতে, শুধুমাত্র সাময়িক ব্যবস্থা নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করতে হবে। পাশাপাশি খাল পুনরুদ্ধার, ড্রেন সংস্কার এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা জরুরি।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে চট্টগ্রামের নিম্নাঞ্চলে আবারও জলাবদ্ধতার আশঙ্কা রয়েছে।
এ অবস্থায় অপ্রয়োজনীয় বাইরে বের না হওয়া, বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়ে সতর্ক থাকা এবং শিশুদের জলাবদ্ধ এলাকায় যেতে না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
নাগরিকদের দাবি
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রতি বর্ষায় একই ধরনের দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি ঘটলেও স্থায়ী সমাধান মিলছে না। দ্রুত ড্রেন পরিষ্কার, খাল পুনরুদ্ধার এবং কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাদের মতে, সময়মতো পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হলে এমন পরিস্থিতি অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব।
চট্টগ্রামে টানা অতি বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা আবারও নগরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।


