প্রকাশিত ৪ আগস্ট ২০২৬ইং ১:১০ এ,এম
নিজস্ব প্রতিবেদন |ইকবাল হোসাইন |লক্ষীপুর
নিহাদকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায় কাভার্ডভ্যান সে নিহাদ লক্ষ্মীপুরে ফুটবল খেলতে গিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময়
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: ইকবাল হোসাইন লক্ষ্মীপুরে ফুটবল খেলতে গিয়ে যাওয়ার পথে কাভার্ডভ্যানের চাপায় নিহাদ হোসেন (১৭) নামে এক কিশোর নিহত হয়েছেন। সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে সদর উপজেলার উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের বিজয়নগর উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে লক্ষ্মীপুর–রামগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পরিবার, স্বজন এবং এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত নিহাদ হোসেন সদর উপজেলার বিজয়নগর গ্রামের বাসিন্দা মো. আজাদের ছেলে। তিনি স্থানীয় কালিবাজার এলাকায় নানার বাড়িতে বসবাস করতেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ফুটবল ছিল নিহাদের সবচেয়ে প্রিয় খেলা। প্রায় প্রতিদিনই বন্ধুদের সঙ্গে মাঠে খেলতে যেতেন তিনি। কিন্তু সেই খেলার মাঠে পৌঁছানোর আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় নিভে গেল তার জীবনের প্রদীপ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে নিহাদ একটি বাইসাইকেল নিয়ে বিজয়নগর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ফুটবল খেলতে যাচ্ছিলেন। বিদ্যালয়সংলগ্ন লক্ষ্মীপুর–রামগঞ্জ সড়কে পৌঁছানোর সময় দ্রুতগতির একটি কাভার্ডভ্যান তাকে চাপা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় তিনি সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পরপরই কাভার্ডভ্যানের চালক গাড়ি নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার শব্দ শুনে আশপাশের মানুষ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা নিহাদকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও ততক্ষণে তিনি মারা গেছেন। খবর পেয়ে স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই সড়কে যানবাহনের বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বিজয়নগর উচ্চবিদ্যালয়ের সামনের এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য শিক্ষার্থী, পথচারী ও সাইকেল আরোহী চলাচল করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই এই এলাকায় যানবাহনের অতিরিক্ত গতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। একাধিক দুর্ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
পরিবারের সদস্যরা জানান, নিহাদ অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করার পর আর বিদ্যালয়ে যাননি। এরপর থেকে পরিবারের পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করতেন। তবে ফুটবলের প্রতি তার আগ্রহ কখনো কমেনি। অবসর পেলেই বন্ধুদের সঙ্গে মাঠে ছুটে যেতেন। খেলাধুলার প্রতি তার ভালোবাসাই শেষ পর্যন্ত তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিল—এমন কথাই কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলছিলেন তার স্বজনরা।
নিহাদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন, বন্ধু ও প্রতিবেশীরা তার নানার বাড়িতে ভিড় করেন। শোকাহত পরিবারের আহাজারিতে পুরো এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। বন্ধুরা জানান, বিকেলেও তারা একসঙ্গে ফুটবল খেলার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু মাঠে পৌঁছানোর আগেই বন্ধু নিহাদের মৃত্যুর সংবাদ তাদের স্তব্ধ করে দেয়।
খবর পেয়ে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। পুলিশ ঘটনার কারণ ও কাভার্ডভ্যানটির পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে বলে জানিয়েছে।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি দুর্ঘটনায় জড়িত কাভার্ডভ্যান ও চালককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সংবাদের মূল বিষয়সমূহ
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, জেলার বিভিন্ন সড়কে ভারী যানবাহনের বেপরোয়া চলাচলের কারণে প্রায়ই প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় গতিনিয়ন্ত্রণ, স্পিড ব্রেকার, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড এবং নিয়মিত ট্রাফিক তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে।
নিহাদের আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকেই তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন। স্থানীয়রা আশা করছেন, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দুর্ঘটনার পর থেকে বিজয়নগর ও আশপাশের এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, খেলোয়াড়, পথচারী ও বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু অনেক সময় ভারী যানবাহন নির্ধারিত গতিসীমা না মেনে চলাচল করায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাদের দাবি, বিদ্যালয় ও খেলার মাঠসংলগ্ন এলাকায় স্পিড ব্রেকার নির্মাণ, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন এবং নিয়মিত ট্রাফিক তদারকি নিশ্চিত করা হলে এমন দুর্ঘটনার সংখ্যা কমানো সম্ভব।
এদিকে নিহাদের অকাল মৃত্যুতে এলাকাবাসী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা আশা করছেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে জড়িত চালককে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে কোনো পরিবারকে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার মুখোমুখি হতে না হয়, সে জন্য সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। স্থানীয়দের মতে, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা গেলে বহু মূল্যবান প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হবে এবং এমন হৃদয়বিদারক ঘটনার পুনরাবৃত্তি অনেকাংশে কমে আসবে।
অফিসিয়াল ইউটিউব ফলো করুন






