সারজিস আলমকে ঘিরে উত্তপ্ত হবিগঞ্জ

সারজিস আলমকে ঘিরে উত্তপ্ত হবিগঞ্জ!

Lakshmipur News
পোস্টটি শেয়ার করুন
লিংক কপি হয়েছে ✓

হামলার অভিযোগ, পুলিশের বাধা ও দেশজুড়ে এনসিপির বিক্ষোভ

প্রকাশিত ২৯ জুলাই ২০২৬ ১:৩০ এ.এম

নিজস্ব প্রতিবেদক |ইকবাল হোসাইন |লক্ষীপুর

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।২৬ জুলাই: ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত এক পথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের কোনো চেষ্টা করা হলে তার পরিণতি হবে আরও কঠোর ও ভয়াবহ। এ ধরনের উদ্যোগ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নতুন করে অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। হবিগঞ্জে দলের পদযাত্রা শেষে সারজিস আলম ও এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার পর দলটি দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করে। একই সঙ্গে পরদিন হবিগঞ্জে যাওয়ার পথে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পুলিশের বাধার মুখেও পড়েন সারজিস আলমসহ এনসিপির শীর্ষ নেতারা।

কী ঘটেছিল হবিগঞ্জে?

মঙ্গলবার বিকেলে হবিগঞ্জ শহরে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সারজিস আলম। সমাবেশ শেষ হওয়ার পর তাদের গাড়িবহর শহরের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকার দিকে গেলে হামলার ঘটনা ঘটে বলে এনসিপির অভিযোগ।

দলের দাবি, একদল ব্যক্তি গাড়িবহর লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং রড ও লাঠি দিয়ে আগাত করে এতে কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সারজিস আলম নিরাপত্তার জন্য একটি ব্যাংক ভবনে আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ তাকে সেখান থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যায়।

এনসিপির অভিযোগ

এনসিপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, হামলাটি ছিল পরিকল্পিত। দলটির অভিযোগ, তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, যানবাহন ভাঙচুর এবং মিডিয়া টিমের সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে দলটি।

পাল্টা বক্তব্য

অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষ হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, ঘটনাস্থলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল এবং এনসিপির অভিযোগ সঠিক নয়। ফলে ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট ভিন্নতা দেখা গেছে।

পুলিশের ভূমিকা

ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পরবর্তীতে এনসিপির পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।২৫ জুলাই: নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি প্রশাসনের উদ্দেশে বলেন, “বিএনপি আজকে ক্ষমতায় আছে, কালকে নাও থাকতে পারে।” একই সঙ্গে তিনি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে আইন ও সংবিধানের আলোকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

দেশব্যাপী বিক্ষোভের ঘোষণা

হামলার প্রতিবাদে এনসিপি সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করে। দলের নেতারা বলেন, হামলার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানানো হয়।

শ্রীমঙ্গলে নতুন উত্তেজনা

বুধবার হবিগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হলে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল এলাকায় সারজিস আলমসহ এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহর পুলিশ আটকে দেয়। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

সারজিস আলমের বক্তব্য

সারজিস আলম বলেন, হামলার বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন থেকে সরে আসবেন না। তিনি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তার বক্তব্যের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচি, প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পাল্টাপাল্টি অভিযোগের কারণে পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। তবে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারও অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

তদন্তের অগ্রগতি

হবিগঞ্জের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সারজিস আলম ও এনসিপিকে ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে। হামলার অভিযোগ, পুলিশের বাধা এবং দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি—সব মিলিয়ে বিষয়টি এখন জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তদন্তের অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন সবার নজর।

আরও খবর পেতে আমাদের অফিসিয়াল ইউটিউব ফলো করুন।

https://www.youtube.com/@Lakshmipurnewes

আমাদের সম্পর্কে।

About Us | Lakshmipur News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *