দেশে সারের সংকট নেই, পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বক্তব্য কৃষিমন্ত্রী
দেশে সারের সংকট ও বর্তমান মজুত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই বলে জানিয়েছেন কৃষি ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তাঁর দাবি, কৃষকদের প্রয়োজনের তুলনায় দেশে পর্যাপ্ত সার রয়েছে। একই সঙ্গে সার নিয়ে বিভ্রান্তি বা কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী।
তিনি জানান, সার সরবরাহ পরিস্থিতি সরকার পর্যবেক্ষণ করছে। কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী যাতে প্রয়োজনীয় সার পাওয়া যায়,এই মুহূর্তে সারের সংকট নেই।মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশে মজুত থাকার পরও সংকটের প্রচার চালানো হলে তার পেছনে উদ্দেশ্য থাকতে পারে।সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের নজর রাখতে বলা হয়েছে।
তবে সার নিয়ে জাতীয় পর্যায়ের মজুত পরিস্থিতি ও স্থানীয় বাজারের বাস্তব। চিত্র এক বিষয় নয়। অতীতেও সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত মজুতের কথা বলা হলেও কিছু এলাকায় ডিলার পর্যায়ে সরবরাহ ও দামের বিষয়ে ভিন্ন অভিযোগের খবর পাওয়া গেছে। ফলে কৃষকের কাছে নির্ধারিত সময়ে সার পৌঁছানোই সরবরাহ ব্যবস্থার কার্যকারিতার গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
সারের সংকট ঠেকাতে সরবরাহে নজরদারি
কৃষি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সার সময়মতো কৃষকের হাতে পৌঁছানো গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে শুধু সরকারি গুদামে কত সার রয়েছে, তা নয়—পরিবহন, ডিলার পর্যায়ে বিতরণ এবং খুচরা বাজারে বিক্রির পরিস্থিতিও নজরদারির আওতায় রাখা প্রয়োজন।

কৃষিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে সার নিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করলে কিংবা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এর আগে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেশের সার মজুত নিয়ে সরকারের আশ্বস্ত করার তথ্য পাওয়া গেছে। একটি প্রতিবেদনে মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাত দিয়ে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সারের উল্লেখযোগ্য মজুতের কথা জানানো হয়েছিল। একই প্রতিবেদনে কৃষিমন্ত্রী বলেছিলেন, বিদ্যমান মজুত দিয়ে দীর্ঘ সময় চালিয়ে নেওয়া সম্ভব।
পেঁয়াজ সংরক্ষণে নতুন উদ্যোগ
সারের পাশাপাশি পেঁয়াজের উৎপাদন ও সংরক্ষণ নিয়েও কথা বলেছেন কৃষিমন্ত্রী। দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ সংরক্ষণ বাড়াতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ রয়েছে।
কৃষি খাতের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, পেঁয়াজ উৎপাদন ভালো হওয়ায় দেশে সরবরাহ পরিস্থিতিও তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক ছিল। সরকারি উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে এবং কৃষকদের আধুনিক সংরক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পেঁয়াজ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বড় একটি সমস্যা হলো উৎপাদনের পর পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধার অভাব। কৃষিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে না পারায় প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পেঁয়াজ নষ্ট হয়। এ সমস্যা কমাতে এয়ার-ফ্লো প্রযুক্তির মাধ্যমে সংরক্ষণ ব্যবস্থা উন্নত করার কাজ চলছে।
- অপরাধ
- আন্তর্জাতিক
- আবহাওয়া
- কৃষি
- জাতীয়
- দূর্নীতি খবর
- ধর্ম
- নির্বাচন
- ব্যবসা-বাণিজ্য খবর
- ব্রেকিং নিউজ
- রাজনীতি
- লক্ষ্মীপুর খবর
কৃষিপণ্যের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্য
সরকারের কৃষি ব্যবস্থাপনায় এখন উৎপাদনের পাশাপাশি সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কৃষক উৎপাদিত পণ্য যাতে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করতে পারেন এবং ভোক্তার জন্য বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ বজায় থাকে—এটাই এসব উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
সারের ক্ষেত্রে যেমন পর্যাপ্ত মজুতের পাশাপাশি সঠিক সময়ে কৃষকের কাছে পৌঁছানো জরুরি, তেমনি পেঁয়াজসহ অন্যান্য কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রেও উৎপাদনের পর সংরক্ষণ সুবিধা বাড়ানো প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, কৃষিমন্ত্রীর বক্তব্যের ভিত্তি হলো দেশে প্রয়োজনের তুলনায় সার মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে সরকার নজরদারি করছে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে কৃষকরা বাস্তবে কী দামে ও কত সহজে সার পাচ্ছেন, সেটিও পরিস্থিতি মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ। তাই জাতীয় মজুতের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের সরবরাহ ব্যবস্থার দিকেও নজর রাখা প্রয়োজন।
খালিদ মাহমুদ/এ,এন
আরও খবর অফিসিয়াল ফেজবুক
https://www.facebook.com/share/18TAXm3NLN
যেকোনো প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে


